Home / সাক্ষাৎকার / তরুণ লেখক রুদ্রাক্ষ রায়হানের “বহুগামী ঘোড়া” ব্যাপক সাড়া ফেলছে পাঠক মহলে

তরুণ লেখক রুদ্রাক্ষ রায়হানের “বহুগামী ঘোড়া” ব্যাপক সাড়া ফেলছে পাঠক মহলে

রুদ্রাক্ষ রায়হান বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একজন কবি। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করলেও  সমানভাবে লিখে চলছেন। এবার ২১শে বইমেলায় “পরিবার পাবলিকেশন” থেকে কবির “বহুগামী ঘোড়া” নামক একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমান প্রজন্মের কবিদের কাব্যগ্রন্থে তুমি-আমি, প্রেম, ভালবাসা এবং অভিমান ইত্যাদি বিষয় প্রধান হলেও রুদ্রাক্ষ রায়হানের “বহুগামী ঘোড়া” কাব্যগ্রন্থে প্রেম-ভালবাসার পাশাপাশি উঠে এসেছে সমাজ চিন্তা, সংস্কার, বাস্তবতা এবং দ্রোহ। কবি রুদ্রাক্ষ রায়হান ১০মে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাদেকপুর গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। সম্প্রতি কবি রুদ্রাক্ষ রায়হানের মুখোমুখি হয়েছিল বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকম। এসময় তিনি “বহুমুখী ঘোড়া” ও অন্যান্য বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকম -এর বিশেষ প্রতিবেদক আকতার ইবনে ওয়াহাব।

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ আপনাকে ক্লান্ত, বিষন্ন মনে হচ্ছে। কেমন আছেন আপনি?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ ক্লান্ত নই, আমি ক্লান্ত হইনা। বিষন্নতা কিছুটা আছে! কিছুটা বলব না আসলে অনেকটাই বিষন্ন আজ! ভালো নেই, আল মাহমুদ চলে গেলেন, তার লাশের সাথে রাষ্ট্র প্রতারণা করেছে। রাষ্ট্র এখানে ছোটলোকির পরিচয় দিয়েছে।

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  কবি আল মাহমুদকে নিয়ে এত বিষন্নতার কি রয়েছে?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ শিশুর মত প্রশ্ন! আল মাহমুদ নিয়ে বিষন্নতার কোন জায়গাটা বাকি রেখেছে দেশ?

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  এবারের ২১শে বইমেলায় আপনার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। এটা নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ হ্যাঁ। “বহুগামী ঘোড়া” নামে আমার একটি কবিতার বই বইমেলায় এসেছে। এতে বিশেষ কোন অনুভুতি নেই। এটা হওয়ারই ছিলো! “পরিবার পাবলিকেশন”কে ধন্যবাদ তারা ভালোবেসে অনেক যত্ন নিয়ে বইটি বের করেছেন।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  এটাই কি আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ? এতে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ দ্রোহ, প্রেম, সমাজ বাস্তবতা, আর মানুষের চিন্তার ব্যবচ্ছেদ বাদ দিলে এই বইয়ে কিছুই নেই।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  বর্তমান সময়, সমাজ সংস্কার চিন্তা, প্রেম,দ্রোহ, যৌনতা অর্থাৎ সমসাময়িক সকল বিষয় কবিতায় তুলে ধরেছেন। আপনার ভিতরে এমন মনোভাব জেগে উঠার কারণ কি?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ কারণ আমি মানুষ! আমি শিক্ষিত, সচেতন, দেশপ্রেমিক, আধুনিক মানুষ। মানুষের রক্ত বহন করা প্রায় সকল কবিই যুগে যুগে এগুলোই লিখেছেন।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  কবিতায় শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দ্রোহ এসেছে। তারা কি এটি মেনে নিবেন? যদি না নেন সেক্ষেত্রে কিভাবে সামাল দিবেন?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ সামাল দেয়ার কিছু নেই! আমি মানুষের মত মরতে চাই, শাসক যদি স্বৈরাচার হয়, তখন তারা কিছু একটা করতে পারে। এখন সত্যটা তো কাউকে না কাউকে ঝুঁকি নিয়েই বলতে হবে, তাই না?

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  বাস্তবতাকে সামনে রেখে কবিতা লিখেছেন। আগামী দিনেও কি বাস্তবতার নিরিখে কবিতা লিখবেন?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ কবিরা রাষ্ট্রের সাহসী সন্তান। একজন শিল্পী সত্যকে যতটা দেখে আর কেউ তা পারেনা। আর আগামীতে কি লিখব তা বেঁচে থাকলে ঠিক করে নেব।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  আপনার কাব্যগ্রন্থের এমন কিছু পংক্তি বলুন, যা পাঠকদের হৃদয়ে স্থান করে নিবে?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ নাই! আমি কারো হৃদয়ে স্থান নিতে আসিনি! আমি মস্তিষ্কে নাড়া দিতে চেয়েছি। আমি চিন্তায় চপেটাঘাত করতে চেয়েছি, এবং তা আমার সমস্ত কবিতায় আছে।

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  কাব্যগ্রন্থের নাম ” বহুগামী ঘোড়া” রাখার রহস্য কি?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ বলব না। কিছু রহস্যের জন্য বই কেনা উচিৎ।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  “বহুগামী ঘোড়া” পাঠকদের কেমন সাড়া পাচ্ছে?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ যতটা প্রত্যাশা ছিলো তার চাইতে কিঞ্চিৎ বেশী।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ আপনি আইন পেশার শিক্ষার্থী হয়েও কবি হওয়ার শখ জেগে উঠলো কেন?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ কবি হওয়া শখ নয়, কবি হওয়া একটা যুদ্ধ, একটা সেক্রিফাইজ! একটা জীবন বাজি রাখার নাম কবি। আমি আইন পড়েছি মানুষের পক্ষে কাজ করতে, রাজনীতি করতে, আর কবিতাই আমাকে সেদিকে ঠেলে দিয়েছে।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  পরিবারের কার কাছ থেকে আপনি বেশি অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ এখন পর্যন্ত তেমন কেউই না। সবাই চায় অনেক বড় আইনজ্ঞ হই।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ সর্বশেষ প্রশ্ন- আপনি কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করেছেন?

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ বউকে। বউ খুশি তো পৃথিবী ঠান্ডা।

 

বিডিগার্ডিয়ান২৪ডটকমঃ  ব্যস্ততার মাঝেও আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

রুদ্রাক্ষ রায়হানঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ! যুদ্ধটা হোক মানুষের কল্যাণে।

About jaid@bd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *