সবুজ চাদরে গা এলানো পাহাড়ে একদিন’

দেখি বাঁশখালী
‘সবুজ চাদরে গা এলানো পাহাড়ে একদিন’
–নুরুল আজিম ইমতিয়াজ

‘আপনাদের ওদিকে জঙ্গল সাফারি হোক’ ফারুক ভাই রাতে বললেন। আমি বললাম, হ্য অবশ্যই, এসব কথাবার্তা শুনে মিনহাজ সামি তো রেগে যাচ্ছে প্রায়।

ফারুক-ইমতি রাজি
তো
কেয়া করে গা কাজী…

কাজী ভাই বললেন, সকাল ৯টা বাজে বাড়ি থেকে বের হবো। বের হয়েছেন পুরোই ১০টা বাজে। এত দেরি হওয়ার কারণটা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন?
এখনো বুঝেননি?
হা হা
নতুন বিয়াইত্ত্যা বলে কথা!

গ্যাসপাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি ম্যানচেস্টার ক্লাবের ডাবল জিরো জার্সি গাঁয়ে, কালো ফ্রেমের চশমা পরে কাজী ভাই কাজী অফিসের দিক থেকে আসছেন…. ও আল্লাহ…ক’দিন আগেই তো বিয়ে করলেন। আবার কাজী অফিস। না, না…

নেমে হাঁটা শুরু করে দিয়েছি। সবাই এক পলকে থাকিয়ে আছে। আমার ভাবী পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফারুখ ভাই নোয়া জামাই বলে দিলেন ডাক, ভাবি-তো মুচকি হেসে দেয় ছুট… হা হা

জঙ্গলে ভ্রমণ করার আগে পেটপুরে খেয়েদেয়ে যেতে হয়। না হয় প্রচুর খিদে পায়। কাজী ভাইকে টেনেটুনে বাড়িতে বসালম। আম্মুকে বলেছিলাম নু্ডুলস ভাঁজতে, আম্মু নুডলস রেঁধে ফেলছেন! যদিও কাজী ভাই খাননি। ফারুক ভাই খানাপিনা তেমন একটা খায় না, বড় পেয়ালায় ১ পেয়ালা দিলেই চলে!

চলছি…গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে, পথে ইয়া মস্ত দীঘির চারপাশে সুপারি গাছ। কথা হতেছে এই দীঘির পাশে এক দশক আগেও মানুষ কাছে ঘেঁষত না ভয়ে । আজকাল সবাই যাচ্ছি।

চারদিকে সবুজ আর সবুজ। দেখলেই মনটা ফ্রেশ হয়ে যাবে। মনে হবে কবিতার লাইনগুলোর প্র‍্যাক্টিকাল অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। সবুজের পাশে ছোট্ট একটি কুমারী ছড়া আছে। আমি হেঁটে পার হয়ে গেছি…

‘চিক চিক করে বালি কোথাও নেই কাঁদা ‘

সত্যি সত্যি কাঁদা লাগেনি… কাজী ভাই পানিতে পা ভেঁজাবে না কথা হতেছে, ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’.. হেইয়ো বলে এক লাফে ছড়া পার। ছরার পাশেই পিচ্চিরা মনের সুখে খেলা করছে কাজী ভাইয়ের ক্যামরা দেখে পিচ্চিরা জোরে জোরে বলছে…
বাবু খাইছো!! বাবু খাইছো!!

আমরা হাসতে হাসতে শেষ! কার বাবু, কি খাবে কে জানে?!

কাজী ভাই রসের মানুষ, ইনিয়ে বিনিয়ে খুউব করে হাসাতে পারেন। আমরা হাসছি আর হেঁটে ছুটছি…পাহাড়ের দিকে।

দুই পাশে বাঁশ বাগান মাঝখানে বালি আর বালি, হাঁটছি। গহীণ অরণ্যে আচম্বিতে একটা দোকান দেখতে পেলাম। ফারুখের চকলেট খুব প্রিয়। বায়না ধরছে চকলেট খাবে। কাজী ভাই বললেন দশটা নাও, ফারুখ নারাজ বিশটাই নিবে! হা হা।।বেচারা পিচ্চিটার আবদার পূরণ হোল না। ১০টাই পেলো।

পাহাড়ের ঢুকার রাস্তাটা একদম সরু দু’পাশে বাঁশ আর বাঁশ। মনে মনে ভাবলাম এত এত বাঁশ থাকার পরও কেনো বাঁশখালীর নাম বাঁশখালী হতে গেলো!

চারদিকে উঁচু উঁচু পাহাড়। মাঝখানে সমতল ভূমি। মোনে হবে বান্দরবনে আছেন নয় তো রাঙ্গামাটি। বিশ্বাস করতে করতেই অনেকক্ষণ সময় কেটে যাবে।

আমাদের লক্ষ্য পাহাড়ের চূড়ায় উঠা। ততক্ষণে পথটাও খুঁজে নিয়েছি। আসার সময় ভাবছিলাম ছবি না তুলেই দৃশ্যটা উপভোগ করবো। এমন জায়গা এসে ছবি তোলা মিস করা যায় না বলে ছবি তুলে ফেললাম শ’য়েক।

পাহাড়ে ভ্রমণ করাটা যেমন আনন্দের তেমন ভয়েরও। পাহাড়ে ভ্রমণকারীদের অনেক বেশি সাহস সঞ্চার করে এগুতে হয়। এখানে দুটি জিনিসের ভয় থাকে।

১ জীব -জন্তু
২ উঁচু নিচু আঁকা বাঁকা পথ

একটু এদিক ওদিক হলেই টপকে যাবেন। আমরা সাহস সঞ্চার সবচে’ উঁচু পাহড়ে উঠব এমন সময় দেখি দুটি মানুষ মাঝ রাস্তায় বসে ফুলেরঝাড়ু কাটছে।

পাশ কেটে উঠে পড়লাম পাহাড়ের উপরে, কাজী ভাইকেও টেনে তুললাম!

বহুদিন আগে একটা দুলাইনের ছড়া লিখেছিলাম,

” সবচে’ উঁচু পাহাড়ে উঠেই দেখি
পরের পাহাড়ই সবচেয়ে উঁচু ”

এখান থেকে পুরো বাঁশখালী দেখা যাচ্ছে। মনে তখন অদ্ভুত আনন্দ। সবাই মিলে সেল্ফি তুলছি এমন সময় স্ক্রীনে দেখলাম ৫টা পিচ্চি দা’ নিয়ে বসে আছে। ভয়ের। দারুণ ভয়ের ব্যাপার।

কাজী ভাই স্বভাব সুলভ তাদের সাথে মিশে গেলেন, পাশে বসে নাম-গ্রাম সবাই জেনে নিলেন। মনে হচ্ছে কাজী ভাই তাদেরই একজন। তাদের সাথে ছবি-টবি তুলে নামার পালা। আস্তে আস্তে অন্য পথে হাঁটা শুরু করলাম।

কাজী ভাইয়ের লাফ দিয়ে লিচুগাছে উঠার ব্যর্থ চেষ্টা। কিন্ত পারেনি দেখে, জিয়া এস.আলম, ফারুখ হু হু করে হেসে উঠল! বড় কাজী লিখেছেন,

পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি”

-কাজী নজরুল ইসলাম

হাঁটতে হাঁটতে দুইল্ল্যা ঝিরিতে চলে এসেছি। (বলে রাখা ভালো, বাঁশখালীতে দুইল্লা ঝিরি আছে চাম্বলে, শীলকূপে, নাপোড়ায় আর জলদীতে) এস আলম আর জিয়া জুতো হাতে ছড়ার স্বচ্ছ পানিতে হাঁটছে। আমি কাজী ভাই ফারুক ভাই জুতো গুলো গুঁজে দিয়ে আমরাও হাঁটছি। দেখছি… বাড়ির পাশেই এত সুন্দর দৃষ্টি নন্দন জায়গা থাকার পর দেখা হয় না,

দুই পা পেলিয়া
দুই চোখ মেলিয়া

েগল্প করতে করতে ফিরছি। বলছি বাঁশখালীর রূপ বৈচিত্রের জানা অজানা কত কথা। কত সুন্দর করিয়া ধরণী মোদের করছো দান.. প্রভূ. .. এলাকার জামাই’র গাড়িতে করে নতুন জামাই সহ ফিরছি তো ফিরছিই। ফেরার সময় নাবিলের জন্য প্রচুর চিপস দেওয়া হয়েছে, সাথে ভাবীর জন্য আইসক্রিম নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেজন্য কি আমরা কিছু বলেছি? বলিনি…আমাদের কথা থাক।

মন্তব্য দিনঃ

About bdsahito

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তুমিও একদিন বাবা হবে~শাবলু শাহাবউদ্দিন

তুমিও ...